আবারো খুলনার নগরপিতা নির্বাচিত ‘খালেক’

খুলনা রাজনীতি শীর্ষ

আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবুদল খালেক আবারো খুলনার নগরপিতা নির্বাচিত হয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই বিজয় ঘোষণা করা হয়নি। বিভিন্ন উৎস থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের প্রাপ্ত ফলাফল থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
খুলনায় মোট ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি। এর মধ্যে অনিয়মের কারণে তিনটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন উৎস থেকে ২৮৬টি কেন্দ্রের ফলাফলই পাওয়া গেছে। সেই ফল অনুযায়ী, নৌকা প্রতীক পেয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯০২ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫৬ ভোট। অর্থাৎ নৌকা প্রতীক নিয়ে খালেক ৬৭ হাজার ৯৪৬ ভোট বেশি পৃষ্ঠা ২ কলাম ৬ পেয়েছেন।

এর আগে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। তবে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালভোট প্রদান, প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে তিনটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের শেষদিকে একটি কেন্দ্রে গোলযোগ ঠেকাতে ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছে পুলিশ। তবে উত্তাপ ছড়ালেও নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো সংঘাত হয়নি। প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন ধারণা করছে।

এদিকে সকালে ভোট গ্রহণ শুরু হলে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল মোটামুটি কম। সকাল সোয়া ৯টার পর থেকে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল ৮টার পর পাইওনিয়ার গালর্স স্কুলে ভোট দেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। সকাল পৌনে ৯টায় রহিমা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ৩০টি কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক একে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা বলেছেন। তিনি বলেছেন, বিএনপি এজেন্ট দিতে না পারলে তার দায় অন্যদের হতে পারে না।

মঞ্জুকে ‘পাশে নিয়েই এগোতে চান’ তালুকদার খালেক: খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনানুষ্ঠানিকভাবে মেয়র পদে জয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, এই নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সঙ্গে নিয়েই খুলনার উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। ভোট দেয়ায় জনগণের কাছে ঋণী উল্লেখ করে কাজের মাধ্যমে সেই ঋণ শোধ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন আগে এক দফায় খুলনার মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি।

কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকার ফল পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা কেন্দ্রে আসেন তালুকদার খালেক। তিনি বলেন, খুলনার জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। আমি তাদের কাছে ঋণী। আমি এই ঋণ শোধ করব কাজের মাধ্যমে।

‘অক্লান্ত পরিশ্রম’ করায় নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান নৌকা প্রতীকের প্রার্থী।

পরাজিত প্রার্থীকে নিয়েই একসঙ্গে কাজ করবেন কিনা এমন প্রশ্নে এমপি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মেয়র প্রার্থী হওয়া তালুকদার খালেক বলেন, অবশ্যই। আমি যখন খুলনার মেয়র ছিলাম, তখন তিনি (নজরুল ইসলাম মঞ্জু) এমপি ছিলেন। সে আমার আমার ছোট ভাইয়ের মতো। আমরা যখন খুলনা শহরে বিভিন্ন আন্দোলনে মাঠে ছিলাম, সেও সেই আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল। মাঠ পর্যায়ের একজন নেতা। এটা আমি অস্বীকার করি না। কাজেই নির্বাচনে একজন হারবে একজন জিতবে। অতএব এ সমস্ত কিছু মেনে নিয়েই আমাদের চলতে হবে।

১০০ কেন্দ্রের ফল বাতিল চান মঞ্জু: খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অন্তত একশ কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি হয়েছে অভিযোগ তুলে সেসব কেন্দ্রের ফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফলাফল ঘোষণার মধ্যে সন্ধ্যার পর এই দাবি তোলেন তিনি।

মঞ্জু বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ছেলেরা বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে। এই রকম কেন্দ্রের সংখ্যা ১০০টিরও বেশি হবে। সেসব কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা বাতিল করতে হবে। এরপর সেখানে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে।

কে ডি ঘোষ রোডে খুলনা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসে মঞ্জু যখন এই দাবি জানান, ততক্ষণে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির তালুকদার আবদুল খালেকের শিবিরে জয়োল্লাস শুরু হয়ে গেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জু বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন একটি কালিমালিপ্ত নির্বাচন। ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা, আমাদের পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে না দেয়া, গত রাত থেকে বাড়িতে হামলা করে একটি ভয়ার্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বপ্নকে চুরমার করে দিয়ে বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশন একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা করল।

তিনি বলেন, খুলনাবাসী এই ফলাফল প্রত্যাশা করেনি। তারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চেয়েছে। সেই স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দিয়ে গভীর রাত থেকেই ভোট ডাকাতির মহড়া শুরু হয়েছে। দিনব্যাপী ভোট ডাকাতির যে চিত্র খুলনাবাসী দেখেছে, সেই নির্বাচন অগ্রহণযোগ্য।

তিনি বলেন, আমি আমার পূর্বের বক্তব্যে বলেছিলাম, এই নির্বাচন ভালো না হলে, আগামী জাতীয় নির্বাচন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। সারাদিন যে ভয়াবহ চিত্র আমরা দেখেছি, তাতে মনে হচ্ছে নির্বাচন নামক এই বিষয়টি মানুষের কাছে স্বপ্নই থেকে যাবে। দেশের মানুষ তার ভোট দিতে পারবে না, তার ভোটটি দিয়ে যাবে সরকারি দলের লোকেরা। আর জাতি সেটা দেখবে।
আজ বুধবার সকাল ১০টায় দলীয় কার্যালয়ে মঞ্জু সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলে জানান খুলনা মহানগর বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এহতেশামুল হক শাওন।

এদিকে জেলা নির্বাচন অফিসার আনিস রহমান জানান, বেলা সাড়ে ১১টার পর ২০২নং ইকবাল নগর সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের একটি বুথে ক্ষমতাসীন দলের ৫০-৬০ লোক প্রিজাইডিং অফিসার খলিলুর রহমানের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে প্রকাশ্যে ১১৫টি ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ফেলেন। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। পরে রিটার্নিং অফিসার ইউনুচ আলী পুরোপুরি ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এই কেন্দ্রে মোট ভোট রয়েছে ২ হাজার ২১টি।

এ ছাড়া খুলনা মহানগরীর ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় ভোট কেন্দ্র ও লবণচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ আমির হোসেন জানান, দুপুর ১২টার দিকে ৮-১০ জনের একদল দুষ্কৃতকারী কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে কাউন্সিলর প্রার্থী নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান রাসেলের পক্ষে ঝুড়ি মার্কায় সিল মারে। এ ঘটনায় ভোট গ্রহণ তাৎক্ষণিক স্থগিত করা হয়। পরে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ পুরোপুরি স্থগিত করা হয়। ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে ভোট রয়েছে ১ হাজার ৬৯১ এবং লবণচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট সংখ্যা ২ হাজার ১৬। স্থগিত হওয়া তিন কেন্দ্রের মোট ভোট সংখ্যা ৫ হাজার ৭২৫টি।

এদিকে বেলা সাড়ে ১১টায় ২১নং ওয়ার্ডের বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী মোল্লা ফরিদ আহমেদ ও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী শামসুজ্জামান মিয়া স্বপনের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কাউন্সিলর প্রার্থী মোল্লা ফরিদ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেন কেন্দ্রে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীক ও কাউন্সিলর প্রার্থী শামসুজ্জামান মিয়া স্বপনের প্রতীকে ভোট দেয়া হয়। অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি বলে তিনি জানান।

এ ছাড়া ২২নং ওয়ার্ডের ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি বুথে ভোট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হলেও পরে ভোট গ্রহণ করা হয়। এদিকে ২২নং ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মাহবুব কায়সারের এজেন্ট আলী আকবরকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাহবুব কায়সার ২২নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর। ৩০নং ওয়ার্ডে রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট সেলিম কাজীকে মারধর করা হয়। এ ছাড়া নগরীর বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। ভাঙচুর করা হয়েছে ৩১নং ওয়ার্ডের হাজি আব্দুল মালেক ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সামনের নির্বাচনী ক্যাম্পও।

প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে নগরীর জিলা স্কুল কেন্দ্রে আলী আকবরকে মারধর করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বিকুর সমর্থকরা। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কাউন্সিলর প্রার্থী মাহবুব কায়সার বলেন, আমার এজেন্ট আলী আকবর সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে খুলনা জিলা স্কুল কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বিকুর লোকজন তাকে মারধর করে। কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। তাকে উদ্ধার করে খুলনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে আলী আকবরকে অপহরণ করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবীর বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। বিষয়টি দেখছি।

অপরদিকে ২২নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বিকুর ছোট ভাই কাজী বেলায়েত হোসেন নতুন বাজার হাজি আবু হানিফ কেরাতুল কোরান নূরানি মাদরাসা কেন্দ্রে ধানের শীষের কোনো এজেন্ট ঢুকতে দেননি। খুলনা জিলা স্কুল কেন্দ্রের ৮টি বুথেও ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ধানের শীষের কোনো এজেন্ট ঢুকতে দেয়নি। তবে এ কেন্দ্রের ৬নং বুথে ধানের শীষের এজেন্ট সিরাজুল ইসলাম লিটন মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর উপস্থিতিতে সকাল ১০টায় কেন্দ্রে ঢুকতে সক্ষম হন। অপরদিকে, খালিশপুর ১১নং ওয়ার্ডের জামিয়াহ ত্বৈয়্যেবাহ নূরানি তালিমুল কোরান মাদরাসা কেন্দ্র থেকে সহোদর সিরাজকে কুপিয়ে আহত এবং আলমকে মারধর করা হয়। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ওয়ার্ডে জামিয়া ইসলামিয়া আশরাফুল উলুম বয়স্ক মাদরাসা কেন্দ্র থেকে

স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী জামান মোল্লা জেলিনের এজেন্ট আসাদ ও হাবিবকে সকালেই কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়।
রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ইবনুর রহমান জানান, দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রলীগ পরিচয়ে ২০-২৫ জন যুবক কেন্দ্রে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করে। তারা কেন্দ্রের ২ থেকে ৫নং বুথে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে ব্যালট বাক্সে ঢোকানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় প্রিজাইডিং অফিসার তাৎক্ষণিক র‌্যাব, বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেটকে খবর দেন। তারা আসলে যুবকরা পালিয়ে যায়। ইবনুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একঘণ্টা ভোট গ্রহণ স্থগিত ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভোট গ্রহণ পুনরায় শুরু হয়।

এদিকে বিকেল পৌনে ৪টায় খালিশপুর উত্তর কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২টি কেন্দ্রে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা সেখানে জাল ভোট দিচ্ছে। এ গুজব শুনে বিএনপির কর্মীসমর্থকরা স্কুলের গেট ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সোনালী সেন। এ ছাড়া নির্বাচন চলাকালীন বড় ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ভোট কেন্দ্রে আসা ভোটারদের প্রতিক্রিয়া: নগরীর ৩০নং ওয়ার্ডের খানজাহান আলী রোড এলাকার বাসিন্দা মো. জুয়েল আহমেদ সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজে ভোট দিতে আসেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর ভোট দিয়েছেন। তিনি সন্তোষও প্রকাশ করেছেন। উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

২৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জাহিদুল ইসলাম ভোট দিতে আসেন মিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি বলেন, সুন্দর পরিবেশে ভোট হচ্ছে। তিনি ভোট দিতে পেরে খুবই আনন্দিত হয়েছেন। একই এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক মো. বাপ্পি শেখ আসেন একই কেন্দ্রে ভোট দিতে। তিনি ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

নগরীর টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক মো. শাহজাহান শেখ। তিনি ৩১নং ওয়ার্ডের মতিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোয়া ১টার দিকে আসেন ভোট দিতে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোট দিতে গেলি স্যারেরা বলেন, আপনার ভোট কেন্দ্র এখানে না। এরপর তিনি হাজি আব্দুল মালেক ইসলামিয়া কলেজে যান ভোট দিতে। সেখানে গেলেও তাকে বলা হয়, আপনি এ কেন্দ্রের ভোটার না। লবণচরা এলাকার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সোয়া ৩টা দিকে ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় ভোট কেন্দ্রে আসেন ভোট দিতে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভাই ভোট দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যালট পেপার ফুরাই গেছে। এ ব্যাপারে তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

-ফেসবুক কমেন্টস-

মন্তব্য