ইঞ্জুরিতে শেষ দুই রাউন্ড মিস করবেন তামিম

খেলাধুলা

ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তিন সদস্য তামিম ইকবাল, তাসকিন আহমেদ এবং মেহেদি হাসান মিরাজ বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) শেষ দুই রাউন্ড খেলতে পারবেন না। পুরোপুরি ফিট হতে তাদের সময় লাগবে ন্যূনতম এক মাস। আর বিসিএলের চলতি মৌসুম শেষ হবে এ মাসের ২৭ তারিখ।

রোববার (১৫ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী।

দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘তিনজনেরই আরও একমাস লাগবে। মিরাজকে আমরা ইনজেকশন দিই। একটি দিয়েছি। ১৫ দিন পরে আরও একটি দেব। রেজাল্ট আসতে ১ মাস লাগবে। তাসকিন রিহ্যাব করছে। রিহ্যাব করলে আমরা ১ থেকে দেড় মাসের জন্য খেলতে নিষেধ করে দিই। কারণ ওর ফিজিওথেরাপি চলবে। তামিমের সব মিলিয়ে দেড় মাসের মতো লাগবে। তিন সপ্তাহ চলবে। আরও তিন সপ্তাহ লাগবে।’

এর ফলে যেটা হলো দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের এবারের মৌসুমে তামিম ইকবাল ও মেহেদি হাসান মিরাজের খেলা হলো না। জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও টেস্ট সিরিজের ব্যস্ততা থাকায় লিগের প্রথম তিন রাউন্ডে তাদের খেলা হয়ে ওঠেনি।

তবে ফর্মহীনতার জন্য জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ায় তাসকিন আহমেদ ওই দুই রাউন্ডে খেলতে পেরেছেন।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার ৭০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফিতে ভারত, বাংলাদেশকে নিয়ে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজন করে শ্রীলঙ্কা। মূলত নিদাহাস ট্রফির সময়ই হাঁটুতে চোট পান দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। ইনজুরি নিয়েও খেলে গিয়েছেন তামিম। নিদাহাস ট্রফি শেষে পিএসএল খেলতে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন তামিম।

সেখানে পেশোয়ার জালমির হয়ে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছেন তামিম। বাম হাঁটুর সমস্যার কারণে উড়াল দিয়েছিলেন ব্যাংকক। সেখানে ভালো চিকিৎসকের সরাপন্ন হন তামিম। তবে রিপোর্ট মোটেও তামিমের জন্য ভালো খবর বয়ে আনেনি। বিসিবির এক সূত্রে জানানো হয়েছিল হাঁটুর এমআরআই রিপোর্ট ভালো আসেনি। কমপক্ষে ৫-৬ সপ্তাহ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসক।

তখন নিজের হাঁটুর সমস্যা নিয়ে তামিম জানিয়েছিলেন, ‘আমাকে হয়তো লম্বা সময়ের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হবে। এসময়টায় পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই আমার।’ বিশ্রামের মাধ্যমেই তামিমকে সুস্থ করে তুলতে চেয়েছে বিসিবির চিকিৎসকরা। বিশ্রামের পাশাপাশি ব্যথা কমার জন্য ফিজিওথেরাপিও দিবেন জানিয়েছিলেন দেবাশীষ চৌধুরী।

‘প্রথমত ওকে বিশ্রাম দিয়ে দেব। যেন ক্ষতটার পরিচর্যা হয়। শরীর যেন নিজেকে সাহায্য করতে পারে। আমাদের কাজ হচ্ছে শরীরকে সাহায্য করা। আমরা কোনো ইন্টারভেনশনে যাচ্ছি না। কোনো ইনজেকশন, কোন ওষুধ দিচ্ছি না। শুধু প্রাকৃতিকভাবে বডি হিল করবে। আমরা ব্যথা কমানোর জন্য ফিজিওথেরাপি দেব।’

তিনি আরও যোগ করে বলেছিলেন, ‘ছোট ছোট কয়েকটা অাঘাত আছে। কোনটাই তেমন বড় আঘাত নয়, যে এই মুহূর্তে আমাদের বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেহেতু আঘাতের মাত্রাটা কম সেহেতু আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে কনজারভেটিব ওয়েতে আগানো। আমরা যদি এরকম ৪-৬ সপ্তাহ করতে পারি ও ব্যথামুক্ত হয়ে যাবে।’

বাম হাঁটুর চোটের কারণে এই সময়টায় করতে পারবেন না অনুশীলনও। তবে ইনজুরি তামিমের জন্য খারাপ সংবাদ হলেও, বড্ড বাঁচা-বেঁচে গিয়েছে বাংলাদেশ দল। এই সময়টায় বাংলাদেশের কোন ব্যস্ত সূচি নেই। এপ্রিল-মে’তে নেই কোন আন্তর্জাতিক সিরিজ। আগামী জুনে ভারতের মাটিতে আফগানিস্তানের সাথে ওয়ানডে সিরিজ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।

আফগানিস্তান সিরিজ শেষেই উইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। আফগানিস্তান সিরিজের আগেই পুরোদমে সুস্থ হয়ে উঠবেন এই দেশসেরা ওপেনার। তবে বিসিবি এই সিরিজে সিনিয়রদের বিশ্রাম দেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানা গেছে। আফগানদের বিপক্ষে তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, সাকিব, মাশরাফিদের বিশ্রাম দেওয়া হলে এক প্রকার অভিজ্ঞদের ছাড়াই সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ।

সিনিয়রদের বিশ্রাম দেওয়ার কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে ইনজুরি। সামনে উইন্ডিজ সফর, এশিয়া কাপ ও উইন্ডিজদের বাংলাদেশ সফর। তাছাড়াও আগামী বছর ইংল্যান্ডে বসতে যাচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ব্যস্ত সূচির আগে দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের পুরোপুরি ফিট চাইছে বিসিবি।

-ফেসবুক কমেন্টস-

মন্তব্য