চুলার মধ্যে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করে জঙ্গিরা

জাতীয় ঢাকা

রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ার ‘জঙ্গি আস্তানায়’ বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করে জঙ্গিরা।গত ৪ঠা জানুয়ারি বাসাটি ভাড়া নেয়ার সময় তারা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়েছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব। অভিযান শুরুর পর একপর্যায়ে একটি কক্ষে গ্যাস ছেড়ে চুলার মধ্যে গ্রেনেড দিয়ে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করে তারা। শুক্রবার সকালে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রটি আসল কিনা নিশ্চিত না। একই জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিতে অন্য নাম। ফটোকপিতে লেখা সজীব। তাই আমরা ধারণা করছি জাতীয় পরিচয়পত্রটি ফেক (ভুয়া)। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টার দিকে শুরু হওয়া অভিযান চলাকালে ওই বাসায় জঙ্গিরা বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করে। পুরো ঘরের মধ্যে তারা গ্যাস ছেড়ে দিয়ে গ্রেনেডটাকে চুলার মধ্যে রেখে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছিল। যাতে করে গোটা কক্ষটা বিস্ফোরিত হয়। তো, আল্লাহর অসীম রহমতে সেটি হয়নি। সেখানে এখনও একটি গ্রেনেড অবিস্ফোরিত রয়েছে। কিছু ডেটোনেটর পেয়েছি, কিছু জেল পেয়েছি, ভেস্ট পেয়েছি এগুলো সন্ত্রাসের কাজে ব্যবহার করা হয়।

১৩/১ পশ্চিম নাখালপাড়ার ‘রুবি ভিলা’ নামে বাড়িটি ঘিরে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহত তিনজনই ‘জঙ্গি’ বলে দাবি করে র‌্যাব।

বেনজীর আহমেদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ভবনের ভেতরে তিনজনের লাশ রয়েছে। সম্ভবত তারা নিজেরাই গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। এর মধ্যে জাহিদ ও সজীব নামে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। তবে সে দুটি পরিচয়পত্রের ছবি একই ব্যক্তির। ধারণা করা হচ্ছে, দুজনই একই ব্যক্তি। বাকিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে দুটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), বিস্ফোরক জেল ও একটি পিস্তল পাওয়া গেছে। গত ৪ জানুয়ারি এ তিনজন বাসাটা ভাড়া নেয়। নিহতদের সবার বয়স ২০-৩০ এর মধ্যে।

এ ঘটনায় বাড়ির মালিক ও কেয়ারটেকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান র‌্যাবের মহাপরিচালক।পশ্চিম নাখালপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১০০ গজ দূরে ‘রুবি ভিলা’র অবস্থান। সাংসদদের সরকারি বাসভবন বা ন্যাম ভবনের কাছেই এটি। ছয়তলা বাসার পঞ্চমতলায় মেস বাসা ছিল।

এর আগে র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সকালে ঘটনাস্থলের কাছে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তখন তিনি বলেন আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে, এ রকম জায়গায় জঙ্গিরা অবস্থান এবং কোনো নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এর ভিত্তিতে ছয়তলা ভবনটির পঞ্চমতলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে জঙ্গিদের সঙ্গে কিছু গোলাগুলি হয়, কিছু গ্রেনেডও নিক্ষেপ হয়।।

-ফেসবুক কমেন্টস-

মন্তব্য