বিমানের ‘ব্ল্যাকবক্স’ উদ্ধার, জানা যাবে বিধ্বস্তের আসল কারণ  

জাতীয় শীর্ষ

নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্ল্যাকবক্সটি উদ্ধার করা হয়েছে। নেপালি কর্তৃপক্ষ বলছে, ফ্লাইট ২১১কে রানওয়ের দক্ষিণ দিক থেকে অবতরণ করতে বলা হলেও পাইলট উত্তর দিক থেকে অবতরণ করে।

তবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স নেপালি কর্তৃপক্ষের দাবি অস্বীকার করে বলেছে, কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে পাইলটকে ভুল নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। তবে এই জটলতা খুব তাড়াতাড়িই খুলে যাবে। কেননা বিমানের ‘ব্ল্যাকবক্স’ উদ্ধার করা গেছে। আর এর মাধ্যমেই জানা যাবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আসল কারণ।

ব্ল্যাকবক্সটি কী 

ব্ল্যাকবক্স নামে ডাকা হলেও এর রং আসলে কালো নয়। এর রং অনেকটা কমলা ধরনের। এর আসল নাম হল- ফ্লাইট রেকর্ডার। যেটি বিমান চলাচলের সর্বশেষ সব তথ্য রেকর্ড করে রাখে। এটি এমন একটি যন্ত্র, যাতে ককপিটের যাবতীয় কথাবার্তা এবং বিমানের কারিগরি তথ্য রেকর্ড করা হয়।

এভিয়েশন বা বিমান নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা কিন্তু এটিকে ব্ল্যাকবক্স নামে ডাকেন না। তারা বলেন- ফ্লাইট রেকর্ডার। এটি অত্যন্ত শক্ত ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি বাক্স, যা পানি, আগুন, চাপ বা যে কোনো তাপমাত্রায় টিকে থাকে। এটি দুটি অংশের সমন্বয়ে আসলে একটি ভয়েস রেকর্ডার। বিমান চলাচলের সময় সব ধরনের তথ্য এটি সংরক্ষণ করে রাখে।

এর মধ্যে দুই ধরনের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। একটি হল- ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার বা এফডিআর। যেটি বিমানের ওড়া, ওঠানামা, বিমানের মধ্যের তাপমাত্রা, পরিবেশ, চাপ বা তাপের পরিবর্তন, সময়, শব্দ ইত্যাদি নানা বিষয় নিজের সিস্টেমের মধ্যে রেকর্ড করে রাখে।

ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) নামে আরেকটি অংশে ককপিটের ভেতর পাইলটদের নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা, পাইলটদের সঙ্গে বিমানের অন্য ক্রুদের কথা, ককপিটের সঙ্গে এয়ার কন্ট্রোল ট্রাফিক বা বিভিন্ন বিমানবন্দরের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগের কথা রেকর্ড হতে থাকে। ফলে কোনো বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে এই ব্ল্যাকবক্সটি খুঁজে বের করাই হয়ে পড়ে উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য। কারণ এটি পাওয়া গেলে সহজেই ওই দুর্ঘটনার কারণ বের করা সম্ভব হয়।

বাক্সটির রং উজ্জ্বল কমলা হওয়ায় সেটি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। সমুদ্রের তলদেশেও ৩০ দিন পর্যন্ত ব্ল্যাকবক্স অক্ষত থাকতে পারে।

-ফেসবুক কমেন্টস-

মন্তব্য