আপনি কি হাঁটতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছেন?

আপনি কি হাঁটতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছেন?
লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য

আপনি কি হাঁটতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছেন? সহজে হাঁপিয়ে ওঠা বা পরিশ্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ হৃদরোগ। যাদের বয়স ৪০ বছর বা তার বেশি তারা যদি অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠেন তবে শতকরা নব্বই ভাগ ক্ষেত্রেই তা হৃদরোগের কারণে ঘটে থাকে। বাকি ১০ ভাগ কারণ হচ্ছে রক্তশূন্যতা, কিডনি ফেইলুর, অতিমাত্রায় বাতব্যথা জনিত অসুস্থতা, ফুসফুসের অসুস্থতা, লিভার ফেইলুর, ক্যান্সার জাতীয় অসুস্থতা এবং ক্যান্সার চিকিৎসায় গৃহীত ক্যামোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি ইত্যাদিই প্রধান কারণ এবং এর মধ্যে সব অসুস্থতাই জটিল অবস্থায় হার্ট ফেইলুর সৃষ্টি করে। তাই কেউ সহজে হাঁপিয়ে উঠলে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করাই প্রাথমিক করণীয়।

মানুষ কেন হাঁপিয়ে ওঠে? এর কারণ একটিই ব্যক্তি পরিশ্রম করার জন্য তার শরীরে অক্সিজেনের প্রয়োজন, বিশ্রামকালীন সময়ের চেয়ে অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। মানে একজন ব্যক্তি বিশ্রামকালীন যতটুকু অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, পরিশ্রমকালীন সময়ে সেই অক্সিজেনের চাহিদা পরিশ্রমের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ৫ গুণ ১০ গুণ ২০ গুণ অথবা ক্ষেত্র বিশেষে ৩০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে (খেলোয়াড়দের), অক্সিজেনের এরূপ বর্ধিত চাহিদা মেটাতে হার্টকে আনুপাতিক হারে ৩০ গুণ পর্যন্ত রক্ত পাম্প করতে হয়। হার্ট যখন চাহিদা মোতাবেক রক্ত পাম্প করতে অসমর্থ হয় তখন ব্যক্তি হাঁপিয়ে ওঠেন। কাজেই সহজভাবে বলা যেতে পারে, যদি কারও হার্ট দুর্বল হয়ে যায়, তবে ব্যক্তি অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে উঠবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে আপনার হার্ট সবল রাখার পরও আপনি সহজে হাঁপিয়ে উঠতে পারেন যেমন-অতিমাত্রায় রক্তশূন্যতা, হাইপার থাইরয়েডিজম বা থাইরয়েড হরমোনের আধিক্য। অনেকে সহজে হাঁপিয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আরও কিছু অসুবিধায় আক্রান্ত হয়ে পারেন। যেমন- পরিশ্রমকালীন শরীর অত্যধিক ঘেমে যাওয়া, কখনো কখনো মাথা ঘোরাতে পারে, হাত-পা অবস হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। কারও কারও পরিশ্রমকালীন বুকের মাঝখানে অথবা বাম পাশে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে।

কখনো কখনো এ ধরনের চাপ বা ব্যথা গলা, চোয়াল, বাহু, হাত, পিঠ ও পেটের উপরিভাগ ছড়িয়ে যেতে পারে। কারও কারও হাঁপিয়ে ওঠার সময়ে হৃৎকম্পন বা বুক ধড়ফড় করতে পারে। আবার কেউ কেউ এ সময়ে তৃষ্ণার্ত হয়ে যেতে পারেন বা মুখ শুকিয়ে যেতে পারে। অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী অথবা জটিল হয়ে গেলে পেট ফাঁপা দেখা দিতে পারে, বদহজম হতে পারে এবং পেটে প্রচুর গ্যাস উৎপন্ন হতে পারে। জটিল ক্ষেত্রে হাত, পা ও মুখ ফুলে যেতে পারে। খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমে যেতে পারে বা অল্প খেলেই পেট ভরা ভরা ভাব দেখা দিতে পারে, খাবারে অরুচি দেখা দিয়ে থাকে। ফুরফুরে মেজাজ, আরামদায়ক আবহাওয়ায় খালি পেটে হাঁপিয়ে ওঠার প্রবণতা কম হয়ে থাকে এবং ভরা পেটে, টেনশন ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায়, বৈরী আবহাওয়ায় হাঁপিয়ে ওঠার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। রোগীর অবস্থা বেশি জটিল হলে খুব অল্প পরিশ্রমে মানে অজু, গোসল, ড্রেস পরিবর্তনকালীনও রোগী অস্থির হয়ে পড়েন। এসব লক্ষণের সঙ্গে যদি কারও উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, হার্টে বাইপাস অপারেশন বা রিং পরানো থাকে অথবা হার্টে ব্লক থেকে থাকে তবে জরুরি ভিত্তিতে চেকআপ করে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। হাঁপিয়ে ওঠার সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতা, কাজকর্মে অনীহা, অলসতা লক্ষণ অনেকের মধ্যে পরিলক্ষিত হতে পারে।

-ফেসবুক কমেন্টস-

মন্তব্য