ব্রিটেনে বাংলাদেশের শিল্পপণ্যের সম্ভাবনা

অর্থনীতি প্রবাস

সবেমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পথে নানান বিতর্ক এবং নিজেদের অবস্থান পোক্ত রাখতে কাজ করছে যুক্তরাজ্য। লিসবন চুক্তি অনুযায়ী আর্টিক্যাল ফিফটি আলোচনার টেবিলে ফেলে চলছে দর কষাকষি। দু‘পক্ষই নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে পায়ের খুট লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইইউর কাস্টমস ইউনিয়ন, একক বাজার এবং নর্দার্ণ আয়াল্যান্ডের বর্ডার সংক্রান্ত আলোচনায় দু‘পক্ষই সপ্তমে চটে আছে। এখন দেখার বিষয় হলো কোন পক্ষের জেদ রচে।

কারণ স্বার্থের বিষয়ে কোন পক্ষই ছাড় দেবে বলে মনে হয় না। আর্টিক্যাল ফিফটির আলোকে আলোচনা এগুচ্ছে। অন্য অনেক বিষয় রয়েছে এই আলোচনায়। তবে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো বাণিজ্য।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে এলে ব্রিটেন একক বাজারে(সিঙ্গেল মার্কেট) থাকতে পারবে কিনা বা থাকতে চায় কিনা এ বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বেশি। যদি থাকতে না পারে তাহলে ইইউভুক্তদেশগুলো থেকে আমদানী করতে গেলে বড় অংকের ব্যয়ের মুখে পড়বে যুক্তরাজ্য। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের মোট আমদানীর প্রায় ৫৩ শতাংশ আসে ইইউভুক্ত অন্যান্য দেশ থেকে। ফলে শুল্কমুক্ত আমদানী সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করছে যুক্তরাজ্য।

একক বাজার থেকে বেরিয়ে এলে সে সুবিধা পাবে না। ব্রিটেনের অর্থনীতিবিদরা বলছেন ইইউর একক বাজাওে ব্রিটেনের থাকার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। যদি তাই হয়, তাহলে নতুন আমদানী বাজারের খোঁজে বেরুতে হবে যুক্তরাজ্যকে। ইতোমধ্যে সেই ইঙ্গিত ও প্রস্তুতির কথাও প্রকাশ করেছে কনজারবেটিভ সরকার। ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টি এখন দক্ষিণ এশিয়ার দিকে।

কয়েকমাস আগে বাংলাদেশে সফরে গিয়ে ব্রিটিশ সরকারের মন্ত্রী লর্ড বেটস সে কথাই শুনিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল আখ্যা দিয়ে এসেছেন। ডিএফআইডির অর্থায়নে পরিচালিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন।প্রয়োজনে বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও ভাবা হচ্ছে এমন ইঙ্গিতও তিনি দিয়েছিলেন। ফলে বাংলাদেশের উচিত যুক্তরাজ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ বা রফতানি খাতে মনোনিবেশ করা।

এক্ষেত্রে একটি সার্ভে পরিচালনার মাধ্যমে সরকার বা ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো অনুসন্ধান করতে পারে কোন কোন পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে চাহিদা রয়েছে। কেবলমাত্র পণ্য নয়, সাংস্কৃতিক বাণিজ্যের বাজারও খুঁজতে পারে বাংলাদেশ সরকার এবং প্রতিষ্ঠানগুলো। যুক্তরাজ্যে শিল্প-সাহিত্যের বিশাল বাজার রয়েছে। মিশ্র ভাষাভাষীর এই দেশে বিভিন্ন ভাষা ও শিল্প-সংস্কৃতির সমান কদর রয়েছে। সে হিসেবে পণ্য-দ্রব্যের বাজারের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বাণিজ্যের দিকেও দৃষ্টি মেলা যেতে পারে

-ফেসবুক কমেন্টস-

মন্তব্য