উপার্জনের খাতা খুলুন ঘরে বসেই!

অর্থনীতি তথ্যপ্রযুক্তি

বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর’— এ কথা অনস্বীকার্য। কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে গলা মিলিয়ে বলা যতটা সহজ, নারীকে ঠিক ততটা সুযোগ তৈরি করে দেয়া সে রকম সহজ নয়। তাই তো ইচ্ছা আর যোগ্যতা দুটোর পাল্লাই যখন ভারী থাকে, তখনও একজন নারী সমাজ-সংসারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পেরে ওঠে না। সে যা-ই হোক না কেন একজন নারীকে দশভুজা হতে হয়, এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই। সংসার সামলে কর্মক্ষেত্রেও যোগ্যতার পরীক্ষা দেয়া শুধু নারীর পক্ষেই সম্ভব। তবে বিশ্বায়নের এ যুগে নারী চাইলে নিজ কর্মদক্ষতায় হয়ে উঠতে পারেন স্বাবলম্বী। ১০টা-৫টা অফিস শেষে সংসার সামলে নেয়া একটু কষ্টকর বটে। তাই বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকারও কিছু নেই। কেননা প্রযুক্তি আপনাকে দিচ্ছে সেসব সুবিধাই যাতে ঘরে থেকে হয়ে উঠতে পারেন স্বাবলম্বী।

স্বদেশে বসে অন্য দেশের পণ্য ব্যবহার করা এখন আর কোনো ব্যাপারই না। যে কেউ চাইলেই এখন বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে নিজের পছন্দের জিনিসটি কিনতে পারেন সহজেই। আর এ সুযোগ করে দিয়েছে অ্যামাজনের মতো প্লাটফর্ম। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট রিটেইলার কিন্তু এটি। মজার তথ্য হচ্ছে, অ্যামাজনে কাজের সুযোগ রয়েছে আপনার হাতেও। সন্তান-সংসার সামলে চাইলে নিজের অবস্থান পোক্ত করতে পারেন আন্তর্জাতিক মানের এ অনলাইন রিটেইলারে। প্রযুক্তি যেহেতু সে সুবিধা দিচ্ছে, তবে কেন হাতছাড়া করতে যাবেন?

শুধু অ্যামাজনই নয় কম্পিউটার টেকনোলজি প্রতিষ্ঠান ডেলও রেখেছে তেমন সুযোগ। যাতে কেউ চাইলে ঘরে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। আন্তর্জাতিক মানের এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও দেশের ভেতর বহু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা ঘরে থেকে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। ডাটা এন্ট্রি কিংবা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিং কাজের মাধ্যমে সে সুযোগ পেতে পারেন।

নিজে কিছু করতে চাই এমন ভাবনা যাদের, তারা কিন্তু এবার চাইলেই ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। প্রযুক্তি সহায়তায় নিজেই একটি অনলাইন ব্যবসা দাঁড় করিয়ে ফেলুন। আপনার নকশা করা পোশাকের জয়জয়কার আত্মীয়-পরিজনদের মাঝে, তাহলে এ গুণকে পুঁজি করেই শুরু করতে পারেন অনলাইনভিত্তিক বুটিক শপ। অথবা পটারি, ঘর সাজানোর টুকিটাকি জিনিসপত্র বানাতে পছন্দ করেন এবার থেকে তাহলে শুধু নিজের জন্যই না বরং বিক্রির উদ্দেশ্যেও তৈরি করতে পারেন। নিজের ইচ্ছা আর চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হবে অর্থের সংস্থানও। প্রযুক্তির এ যুগে তাই পিছিয়ে থাকার দিনকে বিদায় জানান।

-ফেসবুক কমেন্টস-

মন্তব্য