নোটিশ ছাড়াই রাজউকের সিলগালা

আইন-আদালত ঢাকা

প্রায় ৫ বছর আগে অর্থাৎ ২০১২ সালে নিজেদের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে টিকন সিস্টেম। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) কর্তৃক সদস্যপদ পায়। ২০১২ সাল থেকেই দেশে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠানটি। এরই কয়েক বছর পর দেশের গণ্ডি পেরিয়ে কোরিয়াতে নিজেদের উপস্থিতির জানান দেয় টিকন।

তবে সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় প্রতিষ্ঠানটির অফিস সিলগালা করে দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক অনুমোদন না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির অফিস বন্ধ করে দেয়া হয়। ওইদিন অভিযান চালিয়ে একই ভবনে থাকা এবি ব্যাংককে জরিমানা ও ভবন থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য নোটিশ দেয়া হয়। তবে টিকন সিস্টেমকে দেয়া হয়নি কোনো নোটিশ বা সময়। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির উত্তরা শাখার পরিচালক রফিকুল ইসলাম প্রিয়.কমকে জানান, তারা ওই (সেক্টর ১৩, ৮ গরীবে নেওয়াজ এভিনিউ, হাউজ অব ভেরিতাস, লেভেল ৬) ভবনে ২০১৭ এর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কাজ শুরু করেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এমএন ইসলাম জানান, ১৭ ডিসেম্বর রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে কয়েক মিনিটে সিলগালা করে দেয়া হয় তাদের প্রতিষ্ঠানটি। তার ভাষ্য, ‘আমাদের কোনো কথা বলারই সুযোগ দেয়া হয়নি। আমরা খুব বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমরা যখন ফ্লোরটি ভাড়া নেই তখন মালিকপক্ষ অনুমোদন এর জন্য রাজউকে আবেদন করছিল, সাথে আমাদের আশস্ত করেছিল যে অচিরেই আবেদন মঞ্জুর হয়ে যাবে।’ ‘ভাড়াটিয়া হিসাবে আমরা রাজউকের কোনো নোটিশও পাইনি, কিন্ত বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছি। সিলগালা করার আগে রাজউক মিনিমাম একটি সময় নিয়ে আমাদের নোটিশ করতো পারতো। এই ঠিকানাতেই আমাদের কোম্পানির আপডেট রেজিস্ট্রেশনসহ (ট্রেড লাইসেন্স)সব আইনগত কাগজপত্র আপডেট হয়েছে। বিল্ডিংয়ের ভাড়াও বাণিজ্যিক দর অনুযারী পরিশোধ করছি। সাথে গ্যাস, ইলেক্ট্রিসিটিসহ সব ইউটিলিটি ও কর্মাশিয়াল দর অনুযায়ী পে (পরিশোধ) করছি,’ বলেন এমএন ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আমাদের সব কাগজ আপডেটেড। আর আমাদের কোম্পানি মোটামুটি শতভাগ বিদেশি ক্লায়েন্ট নির্ভর প্রতিষ্ঠান। বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছে কোনো এক্সকিউজ (অজুহাত) করার সুযোগ নেই। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘আমাদের ঢাকা অফিসে সবমিলে ১৬-১৭ জন মতো রিসোর্স কাজ করে, হঠাৎ এসে সিলগালা শুরু করে দিলে আমাদের অনেক কম্পিউটার বের করা যায়নি কিংবা কোন কিছু গুছানো যায়নি সব মিলে বছরের শেষের দিকে কিছু আর্জেন্ট ডেলিভারি করা যায়নি, নতুন অর্ডার বাতিল হওয়া, পেমেন্ট না পাওয়া নিয়ে আমাদের মতো ছোট প্রতিষ্ঠান পথে বসার অবস্হায় পড়ে গেছি ‘ অফিস সিলগালা করার বিষয়ে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার প্রিয়.কমকে বলেন, আবাসিক ভবনে কোনো কমার্শিয়াল প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে না। তার দাবি, আবাসিক ভবনে ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিক সিলগালা না করার বিষয়ে সরকার থেকে নীতিমালা করা রয়েছে। সেজন্য ব্যাংক সিলগালা করা হয়নি। অন্য প্রতিষ্ঠান সিলগালা করতে বাধা নেই

-ফেসবুক কমেন্টস-

মন্তব্য