একক কর্তৃত্ব শেষ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিমানের!

গণমাধ্যম জাতীয় শীর্ষ

একক কর্তৃত্ব শেষ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিমানের। বলা হচ্ছে, কার্গো পরিবহন নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন করতে রেগুলেটেড এজেন্ট নিয়োগে পৃথক নীতিমালা প্রায় চূড়ান্ত। লাইসেন্স, নবায়ন, জামানতসহ বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন আমাদের সময়কে বলেন, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য রেগুলেটেড এজেন্ট নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য পৃথক নীতিমালা হচ্ছে। এজেন্ট হিসেবে লাইসেন্স নিতে হবে। নিম্নমানের সেবাসহ অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বিমানবন্দরের কার্গো সার্ভিস নিয়ে। তাই নতুন করে অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেবার মান বাড়াতে এটিকে লাইসেন্সের আওতায় আনছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সে অনুযায়ী, যে কোনো প্রতিষ্ঠানকেই নতুন করে অনুমোদন নিয়ে এ সার্ভিস চালাতে হবে। আর এতে দায়িত্ব হারাতে পারে বাংলাদেশ বিমান।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. নাঈম হাসান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭-এর ধারা-১০ অনুযায়ী লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে চার্জ বা ফি নির্ধারণ করা যেতে পারে। সে হিসেবে রেগুলেটেড এজেন্ট নিয়োগে লাইসেন্স ফি ২৫ লাখ, লাইসেন্স নবায়ন ১০ লাখ, সিকিউরিটি ডিপোজিট (জামানত) ৫০ লাখ টাকা হচ্ছে। তবে যৌথভাবে হলে ৭৫ লাখ টাকা আর রেগুলেটেড এজেন্ট হিসেবে পণ্য পরিবহনে বেবিচককে কেজিপ্রতি দিতে হবে ০.০২ ডলার।

জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টন পণ্য রপ্তানি হয়। এ বিপুল পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য বিভিন্ন এজেন্টের সহস্রাধিক ব্যক্তি অস্থায়ীভাবে কাজ করেন। বাফার নিয়ন্ত্রণে এসব জনবলের মাধ্যমে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলেও তাদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রেও সৃষ্টি হয় নানা জটিলতা। ফলে কার্গো পরিবহনে নিরাপত্তাজনিত হুমকি বাড়ছেই।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের ৮ মার্চ থেকে যুক্তরাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে কার্গো পরিবহন তুলনামূলক কম হয়েছে। এর পর আরও কয়েকটি দেশ থেকেও নিষেধাজ্ঞা আসে। এর পরই নিরাপত্তাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘রেড লাইন সিকিউরিটিজ’-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সম্প্রতি বিমানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি টিম যুক্তরাজ্য সফর করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তা প্রত্যাহারের আভাস মিলেছে বলেও দাবি করেন কর্মকর্তারা। বিমানের সেবা নিয়ে আপত্তি রয়েছে খোদ বেবিচকের। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অনিয়মের অভিযোগও এনেছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান লিখিতভাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠিও দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাইরের জনবলের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে বাফার (বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশন) নিয়োজিত জনবল দিয়েই কাজ করানো হচ্ছে। এতে প্রায়ই মালামাল চুরির ঘটনা ঘটছে। তাই বিমান কার্গোতে অবশ্যই নিজস্ব জনবল নিয়োগ করা দরকার।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বেবিচক এখন ক্যাটাগরি-২ অবস্থায় রয়েছে। তবে ক্যাটাগরি ১-এ উন্নীত হতে গৃহীত উদ্যোগ কাজে নাও লাগতে পারে। এর অন্যতম কারণ বিমানের অপারেটর এবং হ্যান্ডলিং এজেন্টদের দায়িত্ব যথাযথ পালন না করা। পাশাপাশি বাইরের লোক দিয়ে কাজ করানোর কারণে বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকমান বজায় রাখা যাচ্ছে না।

বেবিচক জানায়, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নীতিমালা, কার্গো হ্যান্ডলিং নীতিমালা এবং রেগুলেটেড এজেন্ট নীতিমালা তিনটি ভিন্ন বিষয়। এগুলো বিভিন্ন দেশ তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়মনীতির মধ্যে প্রণয়ন করে, যা সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। তবে প্রাথমিক ধারণার জন্য সার্কভুক্ত কয়েকটি দেশ এবং পার্শ্ববর্তী কিছু দেশের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংস্থা, রেগুলেটেড এজেন্টের তালিকা এবং তাদের আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু নমুনা বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে বেবিচক।
এ ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কার্গো পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে রেগেুলেটেড এজেন্ট নিয়োগের বিধান রয়েছে। তাই কার্গো পরিবহনের মান বাড়াতে সব ধরনের উদ্যোগই নিতে চায় সরকার। এর অংশ হিসেবেই তা লাইসেন্সের আওতায় আনা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) এনেক্স ১৭-এর ধারা ৪.৬.২ অনুযায়ীও, প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের রেগুলেটেড এজেন্টকে বেবিচকের লাইসেন্স নিতে হয়। আর এসব সিদ্ধান্তে খর্ব হতে পারে বিমানের একক কর্তৃত্ব। কারণ কাজ পেতে হলে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে সরকারের এ প্রতিষ্ঠানকেও।

-ফেসবুক কমেন্টস-

মন্তব্য