শাকিব-অপুর সংসার রক্ষার শেষ চেষ্টা ডিএনসিসি’র

ফাইল ফটো
ঢাকা ঢালিউড নির্বাচিত

শাকিব-অপুর সংসার রক্ষার শেষ চেষ্টা ডিএনসিসি’র চিত্রনায়ক শাকিব খান তার স্ত্রী চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসকে তালাকনামা পাঠালেও তা কার্যকর হতে তিন মাস সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যে চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই জুটির সংসারে ভাঙন ঠেকাতে সালিশি বৈঠক বসাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। নগর কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ওই বৈঠকে শাকিব-অপুর সংসার রক্ষার শেষ চেষ্টা থাকবে। সালিশি বৈঠকের জন্য খুব শিগগিরই শাকিব খানের কাছে বিয়ের কাবিননামা চেয়ে নোটিশ পাঠাবে ডিএনসিসি। নোটিশ হাতে পৌঁছানোর পর শাকিব-অপুসহ উভয়ের পরিবারের অভিভাকদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সালিশ বৈঠকে বসবে ডিএনসিসি কর্মকর্তারা।

শাকিব খান রানা’র নামে সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর একটি তালাকনামার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শাকিব খানের স্বাক্ষরিত ইংরেজিতে লেখা ওই নোটিশে বলা হয়, ‘নিম্ন সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আমি শাকিব খান এই নোটিশের মাধ্যমে অপু বিশ্বাসের সঙ্গে সব ধরনের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করে তালাক ঘোষণা করছি।’ এতে সাক্ষী করা হয়, মোহাম্মদ আলী ও আতাউর রহমান নামে দুজনকে। এতে মুসলিম শরিয়া আইনে ২০০৮ সালের ১৬ এপ্রিল উভয়ের মধ্যে বিয়ের কথা উল্লেখ করা হয়।

কম্পিউটার কম্পোজ করা তালাকনামায় লেখা হয়েছে, শাকিব খান রানা। বাবার নাম মো. আবদুর রব, মা রাজিয়া বেগম। বর্তমান ঠিকানা গুলশান-২ এর ১০০ নম্বর সড়কের একটি ফ্লাটে। স্থায়ী ঠিকানায় গ্রাম-রাগদি, থানা-মোকসেদপুর, জেলা-গোপালগঞ্জ। অন্যদিকে অপু ইসলাম খান ওরফে অপু বিশ্বাসের বাবার নাম উপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, মা শেফালী বিশ্বাস। বর্তমান ঠিকানা গুলশান-১, নিকেতন ২ নম্বর সড়কের একটি ফ্লাট। স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-দক্ষিণ কাতনেরপাড়া, ননো গোপাল দেবনাথ লেন, বগুড়া সদর।
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭ (১) ধারা অনুযায়ী, স্বামী তালাক দেওয়ার পরপরই তালাকের সংবাদটি একটি নোটিশের মাধ্যমে চেয়ারম্যান/মেয়রকে (যার এলাকায় স্ত্রী বসবাস করছেন) জানাতে হবে। সেই নোটিশের একটি কপি স্ত্রীকে পাঠাতে স্বামী বাধ্য থাকবেন। শাকিবও তাই করেছেন। তবে কাবিননামার ফটোকপি জমা দেননি।

ডিএনসিসি মেয়রের সহকারী সৈয়দ আবু সালেহ জানান, স্বামী কিংবা স্ত্রী, যে পক্ষই নগর ভবনে তালাকনামার নোটিশ পাঠাক, তার সঙ্গে কাবিননামার কপিও সংযুক্তি পাঠাতে হয়। কিন্তু শাকিব খানের তালাকনামার নোটিশের সঙ্গে কাবিননামার কপি পাঠানো হয়নি। এখন তার কাছ থেকে কাবিননামার কপিও চাওয়া হবে। কিংবা তিনি নিজেও পাঠাতে পারেন। এরপর নগর কর্তৃপক্ষই উভয়পক্ষকে ডেকে সংসার রক্ষার জন্য সালিশ বসাবে। সেখানে উভয়পক্ষের সম্মতি পেলে সংসার টেকানোও সম্ভব। তবে কোনোভাবেই তিন মাসের আগে তাদের তালাক কার্যকর হচ্ছে না।
একজন নগর কর্মকর্তা জানান, শাকিব খান গত ২২ নভেম্বর তালাকের নোটিশ পাঠালেও ডিএনসিসিতে এসেছে অনেক পরে। তবে মুসলিম নিকাহ আইনের ৭ (ক) ধারা অনুযায়ী, নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে শাকিব-অপুকে নিয়ে সালিশ বসানো হবে। এক্ষেত্রে অপু বিশ্বাসকে যেহেতু তালাকের নোটিশ দেওয়া হয়েছে তাই তার বসবাসের এলাকা নিকেতনের মধ্যে ডিএনসিসির যে জোনাল কর্মকর্তা রয়েছেন তিনিই সালিশি বৈঠকের প্রধান হবেন। জোনাল কর্মকর্তা চাইলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকেও বৈঠকে যুক্ত করতে পারবেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে শাকিব খান দাম্পত্য কলহের যেসব কারণ দেখিয়েছেন সেসব বিষয় মীংমাসার চেষ্টা করবেন সালিশকারীরা। এতে শাকিব-অপু একমত হয়ে তালাকের নোটিশ প্রত্যাহার করলেই তারা পুনরায় দাম্পত্য জীবনে ফিরতে পারবেন। এক্ষেত্রে শাকিব রাজি না হলে দ্বিতীয় মাসেও চেষ্টা করবে সালিশকারীরা। এতে কাজ না হলে তৃতীয়বারের মতো সালিশি বৈঠক বসাবে ডিএনসিসি। তবে ওই সময়সীমার মধ্যে দুজন একমত না হলে তবেই বিবাহ বিচ্ছেদ বলে গণ্য হবে।

শাকিব-অপুর বিয়ে হয়েছে মগবাজার কাজি অফিসে। তবে মগবাজারে থাকা দুটি কাজি অফিস বিষয়টি অস্বীকার করেছে। যদিও এর আগে অপু বিশ্বাস বলেছিলেন, তাদের বিয়ের কাবিননামাও শাকিব নিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুজন কাজি অফিস না গিয়ে রোটারি পাবলিক বা কোর্ট ম্যারেজ করলে তাতে বিপত্তি বাধতে পারে অপু বিশ্বাসের বেলায়।
মগবাজার কাজি অফিসের কাজি ও মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতির মহাসচিব হাফেজ মাওলানা সাগর আহমেদ শাহীন বলেন, তারা (শাকিব-অপু) যদি কোর্ট ম্যারেজ করে থাকেন, এরপর যদি কাজি অফিসে রেজিস্ট্রি না করা হয় তাহলে এই বিয়ের আইনগত ভিত্তি থাকবে না। কারণ আদালত বা কোথায়ও কোর্ট ম্যারেজের নথি লিপিবদ্ধ থাকে না।
এদিকে শাকিব খানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করে বিয়ের কথা বলছেন অপু বিশ্বাস। অভিযোগ এনেছেন গর্ভপাতেরও। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ মানবাধিকার কর্মীদের সহায়তা চেয়েছেন অপু।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, তাদের বিয়ে হলো ৮ বছর আগে। এতদিন পর জোর করে বিয়ের অভিযোগ। তাছাড়া একমাত্র মৃত্যুর মুখে পড়ার মতো অবস্থা না হলে গর্ভপাতে ছেলেদের মতো মেয়েরাও অপরাধী। তবে অপু-শাকিব খানের বিষয়টি নিয়ে যেহেতু এখনো আইনি প্রক্রিয়ায় আসেনি বা তাদের নজরে আসেনি তাই এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

Loading...

-ফেসবুক কমেন্টস-

মন্তব্য